টিএসপি সিবিএ নির্বাচন; আওয়ামী লীগ, বিএনপি জামায়াত ‘একজোট’

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) কমপ্লেক্স লিমিটেডের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপি-জামায়াত ‘একজোট’ হয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে পদ বন্টন করেছে। এজন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ১৯ পদে বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আগামি ৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিন বিনা ভোটে নির্বাচিতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, টিএসপি’র সিবিএ নির্বাচনে ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৯ পদের বিপরীতে ২২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৫ পদেই ছিল একক প্রার্থী। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল ২০ সেপ্টেম্বর। এইদিন ৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ১৯ পদের একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬০।

সিবিএ সংশ্লিষ্টরা জানান, টিএসপি’র সিবিএ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ বিএনপির সমর্থিতদের ছেড়ে দিয়ে মোট ১৯ পদের বেশির ভাগ পদ ভাগিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিতরা। এরমধ্যে দু’টি পদ নিশ্চিত করেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের মধ্যে রয়েছে- কার্যকরী সভাপতি মো. ইলিয়াছ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ছালেহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি-২ মো. আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ জহির শাহ, অর্থ সম্পাদক মো. ফায়েজুল খন্দকার ও প্রচার সম্পাদক মো. আমির হোসেন। এরা সবাই সরাসরি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও ক্রীড়া সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরুল কবির ও সমাজকল্যাণ মো. আবদুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়।

আর বিএনপি সমর্থিতদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি হিসাবে মো. শাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক-২ শাহাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইউছুপ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. খোকন। এছাড়া জামায়াত থেকে দু’জন প্রার্থী রয়েছেন তারা হলেন সহ-সভাপতি-১ মো. আরিফুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক-১ মো. জামাল উদ্দিন।

এপ্রসঙ্গে বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, সিবিএ নির্বাচনে আমরা ইতোমধ্যে বিএনপির জন্য ১২টি, জামায়াতের জন্য ২টি ও অন্যান্যদের জন্য ৫টি পদ সমঝোতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করেছি।

তবে ১৯ পদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রার্থী আওয়ামী লীগের- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফ্যাসিবাদের সাথে সম্পৃক্ত এমন কাউকে রাখা হয়নি। যাদেরকে রাখা হয়েছে তারা আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদের সাথে তেমনটা সম্পৃক্ত নয়।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুজিবুর রহমান জানান, আমি অনেক আগে শ্রমিক লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। এখন কারো সঙ্গে আমার সম্পর্ক তেমন নেই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনে কয়েকজন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ১৯ পদের একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। আগামি ৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিন আনুষ্ঠিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে।

©  2019-2025 All Rights Reserved. Design By Ghost