প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে এ সফরে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের বা দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলছেন, টাকা উদ্ধারের আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার অংশ নেবার কথা নয় এবং সেটি হয়ও নি। “এটি কর্মকর্তাদের কাজ গভর্নর ও এসিসি চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা হয়তো সেটি করতে পারেন। এখানে প্রধান উপদেষ্টার কোন কাজ ছিলো না,” বলছিলেন তিনি।

লন্ডনেই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজেই বলেছিলেন, “বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সে অর্থ পাচার হয়ে এসেছে, সেটিকে কিভাবে ফেরত আনা যায়- সেটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীরা কাজ করবেন”।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, সফরটিতে পেশাদারিত্বের ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে। “বাংলাদেশের বাস্তবতার আলোকে রাজনৈতিক বৈঠকটি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সফরটি হলো কূটনৈতিক কাজ। সেই জায়গায় বাংলাদেশের অর্জন কতটা হলো কূটনৈতিক দিক থেকে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ,” বলছিলেন তিনি।

আর মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলছেন, এ সফরে সরকারের অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত বহি:প্রকাশ ঘটেছে, যা পুরো সফরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তিনি মনে করেন।

“সরকারের দিক থেকে যা যা বলা হয়েছে এ সফর নিয়ে, তাতে স্বচ্ছতার প্রচণ্ড অভাব আছে। একটি দলের নেতার সাথে বৈঠক হয়তো রাজনীতিতে স্বস্তি এনেছে। কিন্তু সেজন্য প্রধান উপদেষ্টাকে এত বড় দল নিয়ে সেখানে যেতে হবে এটা কেমন কথা। আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো কিন্তু সেটি অন্যভাবেও করা যেতো,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এর আগেও যেসব বিদেশ সফরে গেছেন তার মধ্যে কতগুলো সত্যিকার অর্থে দ্বিপাক্ষিক সফর ছিলো তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। “এগুলো তার এতদিনকার ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই হয়নি। তিনি বা সরকার অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন”।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসার পরপরই তিনি লন্ডনের যে বিলাসবহুল হোটেলে প্রায় ৪০ জনসহ অবস্থান করেছেন, তার জন্য সরকারকে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়েএখনও কোনো ব্যাখ্যা এখনো আসেনি।