কক্সবাজারের চকরিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কর্মরত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল আত্মসাৎ ও বিক্রি, দায়িত্ব পালন না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোহাম্মদ ইসাহাক গাজী, পদবী—তড়িৎ বিদ্যুৎ-সি।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই দপ্তরে কর্মরত ইসাহাক গাজী বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইসাহাক গাজীর মূল দায়িত্ব বিদ্যুৎ লাইনের কারিগরি কাজে সম্পৃক্ত থাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন না করে দপ্তরের গাড়ি চালানোসহ অন্যান্য কাজে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি গাড়িতে বরাদ্দ করা জ্বালানি তেলের একটি অংশ নিয়মিতভাবে সরিয়ে বিক্রি করা হয়। এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগে ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটির নম্বর কক্সবাজার-ঠ-১১০০৬৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসাহাক গাজী দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসে প্রভাবশালী কর্মচারী হিসেবে পরিচিত। অতীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময়ে তিনি চকরিয়া শাখা সিবিএর সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বিএনপিপন্থী সিবিএ নেতার পরিচয়ে একই ধরনের প্রভাব ধরে রেখেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, অফিসের বিভিন্ন বিষয়ে ইসাহাক গাজীর প্রভাব রয়েছে। এমনকি তার সিদ্ধান্ত বা মতামতের বাইরে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যেতে চান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগকারী বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর কার্যকর তদন্ত হয়নি।
চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা, দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অন্য কাজে যুক্ত থাকা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি গাড়ির জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।