চট্টগ্রাম মহানগরী বর্তমানে একটি নতুন সঙ্কটে পড়েছে—এটি হলো ছিনতাইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন ছিনতাইকারীদের দখলে চলে গেছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, যা আগে ছিল একটি শান্তিপূর্ণ পথ, এখন পরিণত হয়েছে ছিনতাইয়ের হটস্পটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোথায় হচ্ছে ছিনতাই?
হালিশহর থানাধীন এক্সেস রোডের বেপারীপাড়া, ছোটপুল দেওয়ান আলি সওদাগর মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান রোড, ফুলকলি থেকে শান্তিবাগ শেভরন, আরআরএফ পুলিশ লাইন্সের গেট এবং বড়পোল মোড়সহ আরও কিছু এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের তৎপরতার স্পট হয়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ, নারী-পুরুষ, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই ছিনতাইকারীদের শিকার হচ্ছেন।
প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে ৬টা, এবং রাত ১২টা থেকে সেহেরী সময় পর্যন্ত এসব এলাকাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে অনেকেই থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তবে তাদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। অনেকেরই অভিযোগ, পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না এবং ভুক্তভোগীরা এটিকে একটি বিরক্তিকর প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও পুলিশী ব্যর্থতা
একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন যে, পুলিশি তৎপরতা দেখে মনে হয় তারা পুরোপুরি অসহায়। সম্প্রতি, ছোটপুলে ইপিজেডের এক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এলাকাবাসী ছিনতাইকারীদের নাম এবং তাদের অবস্থান জানালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। এক স্থানীয় ট্যাক্সি চালক জানান, ছিনতাইকারীরা তাকে প্রতিবাদ করার জন্য ছুরিকাঘাতও করেছে। অন্যদিকে, একট ভ্যান চালক জানান, তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা, যারা হাতে লাঠি ও কিরিচ নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে।
এদিকে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বড়পোল, ছোটপুল, সিডিএসহ বিভিন্ন স্পটে ছিনতাইকারীদের একটি বড় অংশ থাকে ছোটপুল মালেক মাস্টারের বাড়ি (প্রকাশ চায়না বাড়ি) এলাকায়। বাড়িটির একাধিক প্রবেশ পথ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি পথে প্রবেশ করলে তারা অন্য পথ দিয়ে পালিয়ে যায়, যা তাদের গ্রেফতারকে কঠিন করে তোলে।
গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে একাধিক নাম!
গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে, প্রায় এক ডজনেরও বেশি ছিনতাইকারীর নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে ছোটপুল চায়না বাড়ির সাফায়েত (প্রকাশ গণির নাতি), বিজয় (প্রকাশ আক্কুনির ছেলে), কাল্লু, মিরাজ, সাকিব, রানা, বদি, আরিফ, জীবন (প্রকাশ মোটা জীবন), হৃদয়, মুন্না, মাহিন প্রমুখ।
পুলিশের অভিযান এবং এলাকার মানুষের হতাশা!
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এখন ছিনতাইকারীদের দখলে চলে গেছে এবং পুলিশ কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তারা আরও জানান, এলিট ফোর্স র্যাব কিংবা ডিবি পুলিশের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ স্থানীয় পুলিশ তাদের পক্ষে একা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।
সচেতন মহল মনে করেন, এখনই প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে একটি সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে ছিনতাইকারীদের কবল থেকে শহরকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। সরকারের উচিত একটি তৎপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে নাগরিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আর উদ্বিগ্ন না হন।